৩০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে দুই বাংলাদেশির পরিবার

ক্ষতিপূরণ

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর মধ্যস্থতায় সৌদিতে নিহত দুই বাংলাদেশি পরিবারের অনুকূলে ক্ষতিপূরণের প্রায় ৩০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। বুধবার রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাস জানিয়েছে, ২০০৬ সালে দাম্মামে নিহত সাগর পাটোয়ারীর পরিবারকে ৫১ লাখ সৌদি রিয়াল এবং ২০১৯ সালে রিয়াদে নিহত আবিরণের পরিবারকে ৪৮ লক্ষ ৮০ হাজার সৌদি রিয়াল ক্ষতিপূরণ বাবদ বিতরণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলার সাগর পাটোয়ারী ২০০৬ সালে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর গুলিতে দাম্মাম শহরে নিহত হন। এ ঘটনায় সৌদি নাগরিক উমর আল শাম্মেরিকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আদালত ২০২১সালে শাম্মেরির বিরুদ্ধে শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করে। অভিযুক্তের পিতা অর্থের বিনিময়ে মৃত্যুদণ্ডের দাবী প্রত্যাহারের আপোস প্রস্তাব করলে পাটোয়ারীর ওয়ারিশগন সম্মত হন। আদালত অভিযুক্তের পরিবারের নিকট থেকে রক্তপণের চেক গ্রহণ করে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেন। ৬ ডিসেম্বর দূতাবাসের ব্যাংক হিসাবে ৫১ লাখ রিয়াল জমা হয়।

আর খুলনার পাইকগাছার গৃহকর্মী আবিরণ বেগম ২০১৯ সালে নিয়োগকর্তার বাসভবনে গৃহকর্ত্রী আয়েশা আল জিজানির হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজিজিয়া পুলিশ আয়েশা আল জিজানী, গৃহকর্তা বাসেম সালেম সগির এবং তাদের পুত্র ওয়ালিদ বাসেম সালেমকে গ্রেফতার করে।

দীর্ঘ বিচারকাজ শেষে ২০২১ প্রধান আসামীর বিরুদ্ধে কেসাস বা জীবনের বিনিময়ে জীবন এবং অন্যান্য আসামীদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে আসামীর পরিবার ও সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে রক্তপণের বিনিময়ে আসামীকে ক্ষমা করার জন্য অনুরোধ জানানো হলে নিহতের পরিবার সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে আসামীদেরকে ক্ষমার সম্মতি দেয়। সৌদি আরবে সর্বনিম্ন রক্তপণ ৩ লাখ সৌদি রিয়াল হলেও রাষ্ট্রদূতের প্রচেষ্টায় নিহতের পরিবার ৪৮ লাখ রিয়াল রক্তপণ পরিশোধের বিনিময়ে ক্ষমা করতে সম্মত হয়। আপোস অনুযায়ী সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের পর তা দূতাবাসের একাউন্টে জমা হয়।

সৌদি আরবে কোন বাংলাদেশীর অনুকূলে সর্বোচ্চ ব্লাডমানি আদায় হওয়াতে নিহতের পরিবার দূতাবাসের কর্মরত সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে

আরও দেখুন

এ সংক্রান্ত আরও পড়ুন